HSC ২০১৪, পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৩ এপ্রিল।
মনে হয় না এখনো তেমন কেও
ফেসবুকে আছে, তবুও
একটা দিকনির্দেশনামূলক লেখা লিখলাম,
যদি তাতে অন্তত একজনেরও উপকার হয়
লেখা সার্থক হবে...
বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় লেখা বেশি। তার
উপর প্রথম পরীক্ষা বলে দেখবে একটু পরপর
এইটায় সাইন করো, এইটায় নাম লিখো,
এইটায় রোল লিখো এরকম অনেক কাগজ
আসবে যা তোমার পরীক্ষা চলাকালীনই পূরণ
করতে হবে। তাই বাসা থেকেই প্ল্যান
করে বের হও প্রতিটা ১০ নম্বরের প্রশ্ন
কতটুকু লিখবে। প্রথম প্রশ্ন ইয়া বড়
করে লিখে লাস্টের প্রশ্ন খুব ছোট
করে ফেলার চেয়ে গড়ে সবগুলা সমান
পরিমানে লেখার চেষ্টা করো। আমার যতটুক
মনে পড়ে আমি আমার প্রতিটা বড় প্রশ্ন ৪
পাতা(প্রতি পাতায় ১৫-১৬ লাইন)
লিখেছিলাম, ফলে আমার সময় নিয়েও
ভেজালে পড়তে হয় নি।
তাই তোমাদের কাজ সময় মেইন্টেইন করা। ১
নম্বরের প্রশ্নের উত্তর এক লাইনেই লিখবে,
তাছাড়া ২,৩ ও ৪ এর প্রশ্নে অহেতুক
কথা লিখবে না। মনে রেখো এটা সৃজনশীল।
"খাতার ভর যত বেশি নাম্বার তত বেশি" এই
তত্ত্ব এখানে কাজ করে না। যা চেয়েছে,
তাইই সহজ প্রাঞ্জল ভাষায়
গুছিয়ে লিখলে পূর্ন মার্ক পাবেই পাবে...
গ্যারান্টি...
অব্জেক্টিভ প্রশ্ন পত্র দেখে ভালোমত
সেটকোড ফিলাপ করবে। দেখো, "একটি ভুল,
সারাজীবনের কান্না" । তাই OMR পূরন
করতে নিজের মনোযোগের পুরোটা দিবে।
আশেপাশের কারো সাথে তখন ভুলেও
কথা বলবে না। আবারো বলি, "একটি ভুল,
সারাজীবনের কান্না" ...
বাংলা ২য় পত্র সম্পর্কে বেশি কিছু বলার
নেই। ব্যাকরন ৩০ এ ৩০ সঠিক করার
চেষ্টা করবে, মাথায় রাখবা, ৩০ এ তুমি ২৯
পেয়েছো তো ৮০ তে ৭৯ পেয়ে গেলে।
বাংলা ২য় পত্রতে সাধারনত যে ধরনের
মার্কিং আমাদের শিক্ষকেরা করেন
তাতে ৮০+ তোলা খুব কষ্ট।
আরেকটা ব্যাপার রচনা নির্বাচন করা।
"দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান", "স্বদেশপ্রেম",
"পরিবেশ দূষন" - এধরনের মেইনস্ট্রিম
রচনাগুলো আন্সার না করার সর্বোচ্চ
চেষ্টা করবে। আমাদের সময় যতটুকু মনে পড়ে,
বিজ্ঞান আর পোশাক শিল্প এসেছিলো।
তো আমার হাতের লেখা খুব স্লো। তাই
বেশি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা আমি লিখতে পারতাম
না। তাই ঠিক করলাম পোশাকশিল্প দিবো।
কারন এতে অনেক তথ্য দেয়া যায়।
তাছাড়া এটা মেইনস্ট্রিম রচনা না। মাত্র ৯
পৃষ্ঠার মত লিখেছিলাম। আমি জানি,
আমি যে পরিমান তথ্য
দিয়েছি তাতে এতে আমি অবশ্যই ২০ এ ১৫+
পেয়েছি। বাংলা রচনায় ১৫+ কিন্তু খুব
ভালো নাম্বার...
তাই তোমরা খুব বেশি বিপদে না পড়লে এসব
কমন রচনা বাদ দিয়ে তথ্য খুব
বেশি দেয়া যায় এরকম রচনা দেখে যাবে।
পয়েন্ট খুব বেশি দিবে। আর
যারা ঢাকা বোর্ডের তাদের একটু
"পোশাকশিল্প" রচনাটা দেখে যেতে বলছি,
এসে পড়তে পারে কিন্তু ইংরেজি ১ম ও ২য়
পত্র নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। ১ম
পত্রে তোমরা রিএরেঞ্জটা ঠিকমত
লিখবা আর আগের পাক্কা নাম্বার
যেগুলাতে আসে , মানে ১ থেকে ১০,
সেগুলা সঠিক করবা। তোমার A+ কেও
আটকাতে পারবে না। ২য় পত্রেও একই কথা,
ব্যাকরন ৪০ কারেক্ট করতেই হবে, নাহয়
বাংলার মতই A+ মিস হয়ে যেতে পারে।
তোমাদের রুটিন দেখলাম। খুব ভাল রুটিন
আমার মতে(অন্তত আমাদের বারের
চেয়ে ভালো -_-) । বিজ্ঞান বিভাগের
একটা ব্যাপার দেখলাম, রসায়ন ১ম পত্রের
আগে ১৬-১৭ দিন বন্ধ!!! তো আমার মতে,
এখন রসায়ন ধরার দরকারই নেই।
বরং ফিজিক্স পড়তে পারো যার আগে মাত্র
১ দিন বন্ধ! তাই এখনই ভালোভাবে রিভাইস
দিয়ে রাখো। আর যেহেতু সৃজনশীল, তাই
তোমার পরীক্ষার আগের রাতের
প্রিপারেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন
সারা বছর তুমি কিরকম পড়েছো। শেষ
মুহুর্তে এসে কঠিন কিছু
নিয়ে বসে থেকো না।
যা আগে পড়েছো তাইই বারবার রিভাইস
দেও। বোর্ড পরীক্ষার জন্য তপন স্যারের
বইয়ের উপর কোন বই নেই। তাই অন্য বই
গুতাগুতি এখন আপাতত খেমা দাও। অনেকের
কাছে এডমিশান কোচিং এর বইগুলা আছে।
সাবধান!! ঐগুলা ছুঁয়েও দেখবে না, সাবধান
বলছি...
তোমরা পারবে, অতিরিক্ত
কথা না বলে যাস্ট যেটা চায় সেটাই শুধু
লিখবে, ক্যালকুলেটর সাধারনত সবই
নেয়া যায়, তারপরও ES plus series নিও না।
কোন কোন কলেজ
দুষ্টামি করে বসতে পারে!!
রসায়নের আগে ১৬-১৭ দিন বন্ধ, কিভাবে ঐ
বন্ধে পড়বে এটা তোমাদের ব্যাপার আমরাও
আমাদের সময় এরকম বিশাল এক বন্ধ
পেয়েছিলাম, তখন দেখেছিলাম কেও কেও
কক্সবাজার পর্যন্ত ঘুরতে গেছে, শুধু এই
বিষয়টা খেয়াল রেখো, পড়ালেখায়
যে মোমেন্টাম চলে আসছে, সেটা যেন এই
বন্ধের কারনে নষ্ট না হয়।
জীববিজ্ঞান, ভালোভাবে ভেতরটা পড়ো,
এখন অবশ্য বেশি সময় নেই। তাই তোমাদের
কলেজে যেভাবে পড়িয়েছে সেই দিক
অনুসরন করো।
গণিতের আগেও তেমন বন্ধ নেই,
তবে যা আছে যথেষ্ট। গণিত দেখে অনেক
ভয় পাও, আয়হায়, এত গুলা প্রশ্ন আন্সার
করতে হবে?? বিশ্বাস করো, প্রশ্ন
এতগুলা হলেও তোমাদের আন্সার
করতে সর্বোচ্চ ২.৩০ ঘন্টা লাগবে। কারন
প্রশ্ন কখনোই এত কঠিন হয় না। আর সময়
হাতে থাকে অনেক।
এখন প্রতিটা পরীক্ষার জন্যই কমন কথা,
যেটা সবচে ভালো পারো সেটা দিয়েই শুরু
করবে। না পারা কোন কিছু দিয়ে শুরু
করবে না। মাথায় রাখো, এইসব
পরীক্ষা পুরোটাই মেন্টাল গেইম।
ক্রিকেটের মত, স্টার্টিং ভাল
হলে কনফিডেন্স আসে, যার
ফলে পুরো পরীক্ষাই ভাল হয়।
স্টার্টিং খারাপ হলে পরের সহজ জিনিষেও
তুমি ভুল করে ফেলতে পারো।
তাই প্রশ্ন পেয়েই ঠিক
করে ফেলবে কোনটা তুমি ভাল পারো।
সেটা দিয়েই শুরু করে ফেলবে...
গুরুত্বপূর্ন কিছু তথ্যঃ
*** খাতায় লাল/সবুজ ছাড়া যেকোন
কালারের কলম ব্যবহার করতে পারবে ***
***প্রতিদিন তোমাকে একটি স্বাক্ষর
পত্রে স্বাক্ষর দিতে হবে,
মনে করে দিবে কিন্তু,
নাহলে পরীক্ষা দেয়া সত্ত্বেও
তোমাকে অনুপস্থিত দেখানো হবে***
***প্রতিদিন এডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন
কার্ড সাথে নিয়ে যাবে***
***নকল করার চিন্তা মাথাও এনো না, প্রশ্ন
এত সহজ হবে যে নকল করার দরকারই
পড়বে না, Trust me***
শেষ কথাঃ তোমাদের সৃজনশীল
পদ্ধতিতে পরীক্ষা, তার উপর পুরাতন
সিলেবাসের শেষ ব্যাচ তোমরা, তাই
তোমাদের প্রশ্ন আহামরি কঠিন হবে না।
তাই ভয় পাবার কিছু নেই। একটা গুরুত্বপূর্ন
কথা, প্রতিটা পরীক্ষার আগেরদিন রাতেই
একটা গুজব উঠবে, প্রশ্ন আউট হয়েছে,
দয়া করে কান দিও না। তুমি যা পড়েছো তার
উপর আস্থা রাখো।
জয় তোমাদের হবেই...
ক্রেডিট: পাঠ্যবইয়ে নেই
শনিবার, ২২ মার্চ, ২০১৪
HSC 2014 planning
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন